২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

নবীনগর জিনদপুরে রাতের আঁধারে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মসজিদের জায়গা দখলের অভিযোগ

আপডেট: মে ১৭, ২০২১

নবীনগর ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর জিনদপুরে ইউনিয়ন যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আল মামুন কর্তৃক রাতের আঁধারে মসজিদের জায়গা দখলের পাশাপাশি জিনদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সরকারী খাস জায়গা জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে।

তথ্য সূত্রে জানা যায়,জিনদপুর ইউনিয়নের জিনদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২২১ দাগে, জিনদপুর মসজিদের জায়গা ২২০ দাগে,সরকারি খাস ভূমি গোঘাস ২১৮ দাগে এবং যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আল মামুনের ফসলি জমি ২১৯ দাগে রয়েছেন। বিগত কয়েক মাস পূর্বে সীমানা চিহ্নিত নিয়ে যুবদল নেতা মামুনের সাথে মসজিদ কমিটি ও স্কুলের লোকজনের ঝামেলা হয়।পরে বিষয়টি গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিগনের উপস্থিতিতে সীমানা চিহ্নিত করার মধ্যে দিয়ে সুষ্ঠু মিমাংসা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে ১২/০৫/২১ তারিখ রাতের আঁধারে সরকারের অনুমতি ছাড়াই বেকো মেশিন দিয়ে আল মামুন তার ফসলি জমি কেটে চারপাশে পাড় বাধার জন মাটি ভরাট করতে গিয়ে কৌশলে তার জমির পাশে থাকা সরকারি খাস জায়গা,জিনদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা ও মসজিদের জায়গার একাংশ ভরাট করে ফেলেন। খবর পেয়ে সাধারণ জনগণ ছুটে আসলে আল মামুন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা কারো কথায় কর্নপাত না করে তার কাজ সে চালিয়ে যায়।অবশেষে নিরুপায় হয়ে মসজিদ কমিটি ও স্কুলের লোকজন বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেন।

এই বিষয়ে অভিযোগকারী আবু নাসের শিমুল বলেন, আমি গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে স্কুল,মসজিদ, সরকারী খাস গোঘাসের জায়গা আল মামুনের কবল থেকে দখলমুক্ত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছি।সে খারাপ প্রকৃতির লোক তার কবল থেকে মসজিদের জায়গাও রেখায় পায়নি।আমরা চায় তাকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক।

মসজিদের জায়গা দখলের বিষয়ে মসজিদ কমিটিতে থাকা ৩০ বছরের হিসাবরক্ষক কাজী মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন,আমি ত্রিশ বছর যাবত মসজিদ কমিটিতে হিসাবরক্ষক হিসেবে আছি,আল মামুন রাতের আঁধারে আমাদের মসজিদের ডুবার জায়গাটিতে মাটি ভরাট করে দখল করেন।এতে আমরা বাঁধা দিতে গেলে সে আমাদের বাঁধা না শুনে উল্টো আমাদের ভয়ভীতি দেখায়। যদি আমাদের মসজিদের ডুবার জায়গাটি দখল হয়ে যায় তবে মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিনের বেতন দিতে কষ্টকর হয়ে উঠবে। কেননা আমরা প্রতিবছর এই ডুবাটি পত্তন দিয়ে যে টাকা পায় তা দিয়ে ইমাম মুয়াজ্জিনের বেতন দেই। তিনি আরো বলেন মামুন খারাপ প্রকৃতির লোক, শুধু আমাদের মসজিদের জায়গা নয় আমাদের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জায়গাও মাটি দিয়ে ভরাট করে দখল করেছেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জায়গা ভরাটের বিষয়ে জিনদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাসার বলেন, রমজানের রোজা রেখে আমরা তারাবি নামাজ পড়তে ছিলাম,হঠাৎ খবর পাই রাতের আঁধারে মামুন বেকো মেশিন দিয়ে তার ফসলি জমি ভরাটের পাশাপাশি আমাদের স্কুল, মসজিদ,গোঘাসের সরকারী খাস জায়গা ভরাট করে ফেলতেছেন।খবর পেয়ে গিয়ে আমি সহ গ্রামের লোকজন তাকে বাঁধা দিলে সে কারো কথা না শুনে এসব জায়গা জোরপূর্বক ভরাট করে ফেলেন।আমরা সরকারের কাছে দাবি জানায়,দ্রুত মসজিদ,স্কুল,সরকারী খাস জায়গা দখলমুক্ত করে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য।

সরকারী খাস জায়গা সহ স্কুল,মসজিদের জায়গার দখল সংক্রান্ত বিষয়ে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে জানতে চাওয়া হলে,নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল ছিদ্দিক বলেন,আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি সরজমিনে গিয়ে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নিব।